April 19, 2026, 5:04 pm

মুক্তিপণ না পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে সাত বছরের শিশু খুন

: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রিয়াদ (৭) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামীর দেওয়া তথ্যমতে বুধবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি তালতলা মাদবর বাজার সংলগ্ন বিলের ডোবা থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ সুজন (২৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সুজন নিহত রিয়াদের দুর সম্পর্কের খালু হয়। সে গাইবান্দা জেলার সদর থানার মিয়াপাড়া পূর্ব কমলয় গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শওকত জামিল জানায়, ২৮ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শিশু রিয়াদের বাবা রাজু বাদি হয়ে একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন। এর আগে ২৪ এপ্রিল ইফতারের পর সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী সোনামিয়া বাজার রেল লাইন পূর্বপাড়া এলাকার ভাড়া বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় রিয়াদ। এরই মধ্যে অপরিচিত একটি মোবাইল নাম্বার থেকে রিয়াদের বাবার মোবাইল ফোনে ছেলেকে ফিরে পেতে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে একটি ফোন আসে। পরবর্তীতে সেই মোবাইলের কললিষ্টের সূত্র ধরে আমরা তদন্ত শুরু করি। এক পর্যায়ে আমরা অপহরণকারীকে শনাক্ত করি। পরে বুধবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের চর সিমুলপাড়া এলাকা থেকে অপহরণকারী নিহত রিয়াদের দুর সম্পর্কের খালু সুজন (২৮) আটক করি। এবং তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ি জালকুড়ির তালতলা বিলের একটি ডোবা থেকে শিশু রিয়াদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশু রিয়াদ সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের চরশিমুল পাড়ার স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোান করতো। সে তার মা-বাবার কনিষ্ঠ সন্তান। আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকায় করিম মিস্ত্রির ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে থাকতো শিশু রিয়াদ। রিয়াদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্দা জেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামে।
শিশু রিয়াদের বাবা দিনমজুর রাজু জানান, তার পরিবার এবং অভিযুক্ত আসামী উভয়ের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। কর্মসূত্রে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ভাড়াটিয়া হিসেবে আলাদা আলাদা ঠিকানায় বসবাস করে। রাজু বলেন, নিখোঁজের দিন বিকেলে আমার ভায়রা সুজন আমার দুই ছেলেকে দোকান থেকে কেক কিনে দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। পরে আমার দুই ছেলে কেক নিয়ে বাসায় আসে এবং আমার বড় ছেলে রিয়াদ আবার বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। আমরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে শুরু করি। আমাদের সাথে সুজনও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে। সুজন মাইক ভাড়া করে মাইকিংও করে। পরে অন্য একটি অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে আমার কাছে দেড় লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। কন্ঠ শুনেই সুজনকে আমার সন্দেহ হয়। আমি সাথে সাথে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানায়, শিশু রিয়াদ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা একজনকে আটক করেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা এই হত্যাকান্ডের সাথে আরো একজনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের কারণে আমরা এখনি তার নাম বলতে পারছি না। এ বিষয়ে বিস্তারিত আমরা পরে জানাতে পারবো। হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম পক্রিয়াধিন রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা